ওয়ার্ডপ্রেসের একটি ওয়েবসাইট শুধু বানালেই চলবে না। সেই ওয়েবসাইটটিতে যাতে করে মানুষজন ঢুকতে পারে, সে ব্যবস্থাটাও করতে হবে। সেজন্য ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের স্পিডটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটটিতে যেন খুব সহজেই কেউ যদি ক্লিক করে, তাহলে যেন ওয়েবসাইটে ঢুকতে পারে। অনেক ওয়েবসাইটে দেখা যায় সেই ওয়েবসাইটে ক্লিক করলে অনেকক্ষণ ধরে লোড নেয়। যার ফলে ভিজিটর সেই ওয়েবসাইটে আর ঢোকার ইচ্ছা পোষণ করে না। সে ওয়েবসাইট থেকে বের হয়ে সে অন্য কোন ওয়েবসাইটে চলে যেতে বাধ্য হয়। এর জন্য ওয়েব সাইটটির স্পিড খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

একটি ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের স্পিড বাড়ানোর জন্য নিচের বিষয়গুলোকে খেয়াল রাখতে হবে।

১. সঠিক হোস্টিং ব্যবহার করা

ওয়েবসাইটটির হোস্টিং যাতে খুবই ফাস্ট হয় সে জন্য ব্যবস্থা করতে হবে। এর জন্য খুব প্রসিদ্ধ এবং ভালো মানের ওয়েব হোস্টিং প্রোভাইডারের মাধ্যমে ওয়েবসাইটটি বানাতে হবে। কখনোই ওয়েবসাইটটি কোন শেয়ার্ড হোস্টিংয়ের মাধ্যমে বানানো যাবে না। ওয়েবসাইটটি অবশ্যই একটি ভিপিএসহোস্টিং (vps hosting) অথবা ক্লাউড হোস্টিং (cloud hosting) অথবা ডেডিকেটেড হোস্টিং (dedicated hosting) এর মাধ্যমে বানাতে হবে। ভিপিএস, ক্লাউড বা ডেডিকেট হোস্টিং হলে ওয়েবসাইটটি খুব ভালোভাবে এবং সফলভাবে দ্রুত চলবে। সেটি অনেক চাপমুক্ত থাকবে। আপরদিকে ওয়েবসাইটটি যদি কোন শেয়ার হোস্টিং বা কোন নিম্নমানের অল্প বাজেটের কোন হোস্টিং হয়। তাহলে সেক্ষেত্রে ওয়েবসাইটটি অনেক স্লো কাজ করবে। তাই অবশ্যই ওয়েবসাইটটির স্পিড বাড়ানোর জন্য  একটি ভালো মানের হোস্টিং প্রয়োজন। যাতে করে ওয়েবসাইটের স্পিড অনেক ভালো থাকে। আর সবথেকে ভালমানের ক্লাউড বা ভিপিএস হোস্টিং হল অ্যামাজন লাইটসেল

২. ভাল মানের ডোমেইন প্রোভাইডার ব্যবহার করা

ওয়েবসাইটের স্পিড বাড়াতে চাইলে অবশ্যই এর ডোমেইন প্রোভাইডার অনেক ভালো বা প্রসিদ্ধ মানের হতে হবে। কারণ অনেক নিম্নমানের ডোমেইন প্রোভাইডারের নেম সার্ভার (name server) অনেক স্লো থাকার কারণে ওয়েবসাইটের স্পিড অনেক স্লো হয়। যার ফলে ভালো মানের ডোমাইন প্রোভাইডার এর কাছ থেকে ডোমেইনটি কিনতে হবে। ভাল ডোমেইন প্রোভাইডারের ডোমেইন দিয়ে ওয়েবসাইটটি বানালে ওয়েবসাইটি অনেক দ্রুত গতির হবে। সবথেকে ভালমানের ৩টি ডোমেইন প্রোভাইডার হল গোড্যাডি (godaddy.com), নেমচিপ (namecheap.com), ডোমেইন ডট কম (domain.com)

৩. অপ্রয়োজনীয় প্লাগিন ব্যবহার না করা

একটি ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট স্লো হওয়ার অন্যতম কারণ হল এতে অনেক বেশি প্লাগিন্স ব্যবহার করা। তাই এই ওয়েবসাইটটির প্লাগিন্স যাতে করে অনেক বেশি না হয় সে দিয়ে খেয়াল রাখতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় অনেকে অহেতুক এবং অপ্রয়োজনে প্লাগিন্স ওয়েবসাইটে ইন্সটল করে রাখে। যাতে করে সেই ওয়েবসাইটের স্পিড অনেক কমে যায়। তখন সেই ওয়েবসাইট অনেক স্লো হয়ে যায়। কারণ তখন ওয়েবসাইটটির ডাটাবেজ অনেক বেশি ভারি হয়ে যায়। যার ফলে ওয়েবসাইট অনেক স্লো কাজ করে। তাই যতটুকু সম্ভব প্রয়োজনীয় প্লাগিন্স ব্যতিত অপ্রয়োজনীয় প্লাগিন্স ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।

৪. ওয়েবসাইটের ছবি অপটিমাইজ করে ব্যবহার করা

একটি ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট অনেক স্লো হবার অন্যতম কারণ হল এর বড় সাইজের ইমেজ বা ছবি। তাই ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত ইমেজ বা ছবির সাইজ অনেক কম থাকতে হবে। অর্থাৎ একটি ওয়েবসাইটে যদি অনেক বড় বড় হাইরেজুলেশনের ইমেজ বা ছবি থাকে যেগুলোর সাইজ ৫০০ (500 KB) কেবি থেকে উপরে হয়ে থাকে তাহলে সেই ওয়েবসাইটের প্রতিটা পেজ লোড নিতে অনেক সময় লাগাবে। যার ফলে অনলাইন ইমেজ অপটিমাইজার টুল ব্যবহার করে ইমেজ অপটিমাইজ করে নিতে হবে। আর খেয়াল রাখতে হবে সেই ইমেজ বা ছবি webp ফরম্যাটে অপটিমাইজ করা হয়। আর সেই ছবির সাইজ যেন অপটিমাইজ করার পর ৫০ কেবির (50 KB) কম হয়। কয়েকটি অনলাইন ইমেজ অপটিমাইজ টুলস হল-

১ . imagecompressor.com

২. tinypng.com

৩. pixlr.com

এছাড়া প্লাগিন্স ব্যবহার করে ইমেজ অপটিমাইজ করা যায়। ওয়ার্ডপ্রেসের কয়েকটি ইমেজ অপটিমাইজ প্লাগিন হল-

১. Converter for Media

২. EWWW Image Optimizer

এদের মধ্যে Converter for Media প্লাগিন্সের সাহায্যে খুবই সহজে ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের যেকোন ইমেজ বা ছবি webp ফরম্যাটে কনভার্ট করা যায়। আর এতে ইমেজ বা ছবির সাইজ অনেক বেশি কমে যায়। এতে ওয়েবসাইটের স্পিড অনেক বেশি বেড়ে যায়।

৫. ক্যাশিং প্লাগিন ব্যবহার করা

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের স্পিড বৃদ্ধির জন্য  একটি ক্যাশিং প্লাগিন লাগাতে হবে। এর জন্য W3 Total Cache প্লাগিন সবথেকে ভাল হবে।

W3 Total Cache প্লাগিন যেভাবে সেট করতে হবে-

১. প্রথমে প্লাগিনটি ইন্সটল করে নিতে হবে।

২. এরপর General Settings এ ক্লিক করতে হবে। এখান থেকে Page cache অপশনে টিক দিতে হবে। এরপর Save all settings বাটনে ক্লিক করতে হবে।

৩. এবার Page Cache তে ক্লিক করতে হবে। এখান থেকে General এর প্রথম ৪ টি অপশন ও শেষের ৩ টি অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর Cache Preload থেকে Automatically prime the page cache তে ও Preload the post cache upon publish events তে টিক দিয়ে দিতে হবে। এরপর Save all settings বাটনে ক্লিক করতে হবে।

৪. Browser Cache তে ক্লিক করতে হবে। এখান থেকে General এর প্রথম ৬ টি ও ৯, ১০ অপশনে টিক দিয়ে দিতে হবে। এরপর Save all settings বাটনে ক্লিক করতে হবে।

Cloudflare ব্যবহার করলে Extensions e এ ক্লিক করতে হবে। এখান থেকে Cloudflare থেকে API ও website দিয়ে Cloudflare অ্যাক্টিভ করে নিতে হবে।

এছাড়া CDN লাগানোর জন্য General Settings থেকে cdn enable করে নিতে হবে। এরপর CDN TYPE থেকে আপনার ব্যবহৃত CDN সিলেক্ট করে Save all settings বাটনে ক্লিক করতে হবে। এরপর CDN বাটনে ক্লিক করে Configuration: Objects অপশন থেকে Specify account credentials এর Authorize বাটনে ক্লিক করে API Client ID ও API Client Secret সেট করে দিতে হবে।

এভাবে খুব সহজে w3 total cache সেটিং করে নিতে হবে। আর আপনার যদি cloudflare বা cdn না থাকে, তারপরেও কোন সমস্যা নেই। এগুলি ছাড়াও শুধুমাত্র w3 total cache প্লাগিনের ফ্রি ভার্সন ব্যবহার করেই একটি ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের স্পিড কয়েকগুণ বাড়ানো যাবে।