এসইও মানে হল সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন। অর্থাৎ একটি ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটকে গুগল সার্চ রেজাল্টে র‍্যাংক করানোকেই এসইও বলে। আমরা যখন একটি ওয়েবসাইটের কিওয়ার্ড লিখে সার্চ দেই তখন ওই কিওয়ার্ড রিলেটেড অনেকগুলো ওয়েবসাইট গুগল সার্চ রেজাল্টে দেখায়। কিন্তু প্রথম পেজের দিকে যে ওয়েবসাইটগুলো দেখায়, আমরা সেই ওয়েবসাইটগুলোতেই সাধারণত ঢুকে থাকি। আর এসইও এর মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইটকে গুগলের সার্চ রেজাল্টের প্রথম পেজে নিয়ে আসা যায়। একটি ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটকে এসইও করার দুই উপায় আছে। সেগুলো হল- 

১. অনপেজ এসইও

২. অফপেজ এসইও

কিভাবে অনপেজ এসইও করতে হয়

১. অনপেজ এসইও এর প্রধান শর্ত হলো আপনার ওয়েবসাইটটির পোস্ট ও পেজের কনটেন্ট বা আর্টিকেল বা ব্লগ ইউনিক হতে হবে। অর্থাৎ কারো কোন কনটেন্ট থেকে চুরি করা যেন না হয় বা কপি করা না হয়।

২. কনটেন্ট বা ব্লগ বা লেখাতে অনেক তথ্য থাকতে হবে। কনটেন্টটির অনেক বেশি সঠিক কিওয়ার্ড থাকতে হবে। এই কিওয়ার্ডগুলো কিওয়ার্ড রিসার্চ এর মাধ্যমে সেট করতে হবে। কিওয়ার্ড ডেনসিটি সঠিক থাকতে হবে। ঘন ঘন একই কিওয়ার্ড ব্যবহার করা যাবে না।

৩. কিওয়ার্ডগুলো H2, H3, H4 ইত্যাদি টাইটেল ট্যাগে থাকতে হবে। একটি কন্টেন্টের ভেতর শুধুমাত্র একটি H1 ট্যাগ টাইটেল থাকতে হবে।

 ৪. একটি কনটেন্ট বা আর্টিকেলের জন্য একটি ফোকাস কিওয়ার্ড থাকতে হবে। অর্থাৎ একটি ফোকাস বিষয়বস্তুর উপর সেই কনটেন্টটি লিখতে হবে।

H2, H3 টাইটেল ডিস্ট্রিবিউশন

৫. সেই ফোকাস কিওয়ার্ড কন্টেন্ট বা আর্টিকেলে H2, H3 ইত্যাদি টাইটেলে থাকতে হবে। এছাড়া এই ফোকাস কিওয়ার্ড ব্লগের প্রথম প্যারায় থাকতে হবে। এছাড়ায় ফোকাস কিওয়ার্ড ওয়েবসাইটের লিঙ্কে থাকতে হবে।  এছাড়া ফোকাস কিওয়ার্ড ইমেজের Alter Tag এ ও থাকতে হবে। এই ফোকাস কিওয়ার্ড মেটাটাইটেল ও মেটা ডিসক্রিপশনে থাকতে হবে।

৬. ব্লগ বা আর্টিকেলে পর্যাপ্ত পরিমাণ ইমেজ ও ভিডিও থাকতে হবে। ব্লগ বা আর্টিকেল এর font ১৮ পিক্সেল হলে খুব ভালো হয় এবং কালার খুব চকচকা হতে হবে। যাতে করে একটি ব্যবহারকারী খুব সহজে লেখাগুলো পড়তে পারে। 

৭. ব্লগ বা আর্টিকেলে inter link ও outbound লিংক থাকতে হবে।

৮. ব্লগের লেখার ধরন অনেকে গুছানো ও পরিচ্ছন্ন হতে হবে। কোন প্রকার জটিল শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। প্রতি প্যারাতে ৩০০ শব্দের বেশি ব্যবহার করা যাবে না।

৯. মেটা ডেসক্রিপশন ১৬০ ওয়ার্ডের মধ্যে হতে হবে।

১০. ওয়ার্ডপ্রেসের অনপেজ এসিইও এর জন্য প্রয়োজনীয় প্লাগিন হল-

All in one seo pack

Yoast Seo

Rank Math

১১. এছাড়া টেবিল অফ কনটেন্ট এই প্লাগিনটি লাগাতে হবে। এটি লাগালে একটি ব্লগের ঠিকভাবে টাইটেল বন্টন করার সুবিধা হবে। যা ওয়েবসাইট র‍্যাংক করতে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কিভাবে অফপেজ এসইও করতে হয়

১. অফপেজ এসইও হল ওয়েবসাইটের বাইরের এসইও।  ওয়েবসাইটের বাইরে থেকে ভিজিটর নিয়ে আসা এর জন্য প্রথম কাজটি হল সোশ্যাল শেয়ার। এর জন্য সোশ্যাল মিডিয়াতে বিভিন্ন পেজ খুলে ওয়ার্ডপ্রেসের ওয়েবসাইটের লিংক গুলো শেয়ার দিতে হবে এবং মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। এছাড়া প্রতিটি ব্লগ বা আর্টিকেলে একটি সোশ্যাল শেয়ার বাটন প্লাগিন লাগাতে হবে। যাতে করে মানুষ সোশ্যাল মিডিয়াতে খুব সহজে আর্টিকেলগুলো শেয়ার দিতে পারে।

ইমেইল মার্কেটিং

২. ইমেইল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে অফপেজ এসইও করা যায়। এজন্য Mailchimp এ অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এরপর Mailchimp এ ক্যাম্পেন create করে সকল ইমেইল নিয়ে সেই ইমেইল গুলো কাস্টমারের কাছে পৌঁছাতে হবে বা ইউজারের কাছে পৌঁছাতে হবে। এতে করে আপনি আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর পাবেন এবং আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর অনেক বেড়ে যাবে। এই ইমেইল মার্কেটিং ফ্রী ও পেইড দুইভাবেই করা যাবে।

 ৩. একটি ওয়েবসাইটের এসইও এর স্পিড এর উপর নির্ভর করে।  একটি ওয়েবসাইটের স্পিড যত ভালো হবে তত সহজে ওই ওয়েবসাইটে একটি ভিজিটর খুব ভালোভাবে ঢুকতে পাবে।  কারণ সেক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট অনেক ভালো হবে। ওয়েব সাইটের বাউন্সরেট ভালো হওয়া মানে সেই ওয়েবসাইটের একটি ভিজিটর অনেক বেশি সময় ধরে থাকতে পারে। যার ফলে ওয়েবসাইটের উদ্দেশ্যে সঠিকভাবে সফল হয়।  সুতরাং ওয়েবসাইটের স্পিড একটি ওয়েবসাইটের জন্য খুব ভালো।

৪. একটি ওয়েবসাইটকে র‍্যাংক করার জন্য এবং এর ভিজিটর বাড়ানোর জন্য টাকা দিয়ে প্রমোশন করা যায়। সেটাকে পেইড প্রমোশন বলে। যেমন পেইড ভাবে ইমেইল মার্কেটিং করা এটা এক ধরনের পেইড প্রমোশন। এছাড়া গুগল এড, ফেসবুক এডস এর মাধ্যমে টাকা দিয়ে ওয়েবসাইটকে প্রমোশন করা যায়।