আমাদের মধ্যে যাদের এখনো ভোটার আইডি কার্ড হয়নি বা ভোটার আইডি কার্ড করার এখনো বয়স হয়নি, তাদের বিভিন্ন কাজে যেমন স্কুল-কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে বা অন্যান্য বিভিন্ন কাজে জন্ম নিবন্ধন করা খুবই প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। আর প্রতিটি নাগরিকের একটি জন্ম নিবন্ধন থাকতেই হবে। আরে জন্ম নিবন্ধন এর জন্য খুব সহজেই অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করা যায়। এর জন্য একটি ওয়েবসাইটে ঢুকতে হবে।  ওয়েবসাইটের নাম হলো bdris.gov.bd.

কিভাবে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করতে হয়

এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর জন্ম নিবন্ধন মেনু থেকে জন্ম নিবন্ধন আবেদন বাটনে ক্লিক করতে হবে।

এবার এখানে তিনটি অপশন আসবে। আপনি নিম্নলিখিত কোন ঠিকানায় জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করতে চান? এই প্রশ্নটি করা হবে। সেখানে তিনটি অপশন আসবে। এর মধ্যে যেকোন একটি সিলেক্ট করে পরবর্তি বাটনে ক্লিক করতে হবে। 

এবার জন্ম নিবন্ধন এর জন্য একটি ফর্ম আসবে। সেখানে আপনার নামের প্রথম অংশ, দ্বিতীয় অংশ, পিতামাতার নাম, ঠিকানা ইত্যাদি বাংলায় ও ইংরেজীতে পূরণ করে পরবর্তী বাটনে ক্লিক করতে হবে।

এরপর পিতা ও মাতার জন্ম নিবন্ধন নাম্বার ও তাদের ভোটার আইডি নাম্বার বাংলায় ও ইংরেজীতে দিয়ে পরবর্তী বাটনে ক্লিক করতে হবে।

এবারে নতুন পেজ তৈরি হবে এবং সেখানে লেখা থাকবে নতুন জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন। এখানে দুইটি অপশন থাকবে। প্রথমটি হলো আপনি কি নিম্নলিখিত কোন ঠিকানা আপনার স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করতে চান এবং আরেকটা অপশন আপনি কি নিম্নলিখিত কোন ঠিকানা আপনার বর্তমান ঠিক আছে ব্যবহার করতে চান। এই অপশন থেকে কোনোটিই নয় সিলেক্ট করতে হবে। এরপর নিচে জন্মস্থানের ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানা কি এই অপশনে টিক দিতে হবে। এবার নিচ থেকে আপনি  কোন ঠিকানা আপনার বর্তমান ঠিকানা চাইবে ব্যবহার করতে চান। সেটিতে কোনটি নয় টিক দিতে হবে। এরপর স্থায়ী ঠিকানা বর্তমান ঠিকানা একই সেটাতে পিক দিয়ে পরবর্তী বাটনে ক্লিক করতে হবে।

এবার এই পেজে দেখাবে যে আবেদনকারী যদি ১৮ বছরের কম হয় তাহলে তার অভিভাবক এটি আবেদন করবে। আর যদি ১৮ বছরের বেশি হয় তাহলে সে নিজে আবেদন করবে। আপনি এখান থেকে নিজ অথবা অন্যান্য  সিলেক্ট করবেন। নিজ হলে আবেদনকারী নাম ও ফোন নাম্বারটা দিতে হবে। আর অন্যান্য হলে অভিভাবকের জন্ম নিবন্ধন নাম্বার, জাতীয় পরিচয় পত্র নাম্বার আবেদনকারীর নাম ও মোবাইল নাম্বার এবং ইমেইল এড্রেসটা দিয়ে দিতে হবে। এবার নিচ থেকে আপনার সার্টিফিকেট গুলো সেট করে দিতে হবে।আপনার যদি পরীক্ষার কোন সার্টিফিকেট না থাকে তাহলে ডাক্তার সার্টিফিকেট আর আপনার যদি পরীক্ষার সার্টিফিকেট থাকে তাহলে এইচএসসি এসএসসি সার্টিফিকেট যোগ করে দিতে হবে। অবশ্যই সেগুলোর ফটোকপি হতে হবে এবং তা সত্যায়িত হতে হবে। সব ফাইল আপলোড হয়ে গেলে পরবর্তী বাটনে ক্লিক করতে হবে। ফাইলগুলো অবশ্যই ছবি আকারে দিতে হবে এবং সেগুলো 100 kb এর মধ্যে হতে হবে। এরপর পরবর্তী বাটনে ক্লিক করতে হবে।

এবার আপনার সব তথ্য সিরিয়ালে দেখাবে। সব তথ্য সঠিক থাকলে সাবমিট বাটনে ক্লিক করতে হবে। এবার দেখাবে সাকসেস। আপনার আবেদন পত্রটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এবার আপনার একটি আবেদনপত্রের নাম্বার দেখাবে ভবিষ্যতে আপনি এই নাম্বারের সাহায্যে পরবর্তীতে যে কোন সংশোধনের জন্য আপনার তথ্য গুলো দেখতে পাবেন।

এবার নিচ থেকে আবেদনপত্র প্রিন্ট করুন। এই বাটনে ক্লিক করে আপনি আবেদন পত্রের একটি কপি ভার্সন প্রিন্টার দিয়ে বের করে নিতে পারবেন। এবার সেই আবেদন পত্রটির প্রিন্ট কপি ভার্সনের সাথে আপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র একসাথে দিয়ে নিকটস্থ ইউনিয়ন পরিষদ বা ওয়ার্ড কাউন্সিলে যেয়ে জমা দিতে হবে। তারা সবগুলো কাগজ ভাল করে দেখবে যে আপনার সবকিছু ঠিক আছে কিনা। সবকিছু যদি ঠিক থাকে তাহলে এক মাসের মধ্যে আপনার মোবাইল নাম্বার একটি মেসেজ আসবে। সেখানে বলা হবে। আপনার জন্ম নিবন্ধন হয়ে গেছে। আপনি তারপর সেখানে যেয়ে আপনার জন্ম নিবন্ধনটি কাউন্সিলরের সই সহ সংগ্রহ করে নিবেন।