সীমান্তবর্তী জেলাসহ যেসব স্থানে করোনা সংক্রমণ বেড়েছে সেসব স্থানে স্থানীয়ভাবে কঠোর লকডাউন দিচ্ছে প্রশাসন। গতকাল সাতক্ষীরা প্রশাসন শনিবার থেকে এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করেছে। এ ছাড়া ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাওলী গ্রামে লকডাউন ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

অন্যদিকে, নওগাঁ পৌর শহর ও নিয়ামতপুর উপজেলায় সর্বাত্মক লকডাউনের প্রথম দিনে পুলিশি তৎপরতা দেখা গেছে। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে লকডাউন আরো দুই দিন বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ২৪ মে থেকে বিশেষ লকডাউন চলছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন :

Advertisement

সাতক্ষীরা : জেলায় করোনা সংক্রমণের হার ৫৪ শতাংশ। চিকিৎসাধীন করোনা রোগী রয়েছে ২৪৫ জন। এ কারণে জেলা প্রশাসন গতকাল দুপুরে করোনা প্রতিরোধ কমিটির এক সভায় লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সভায় জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল জানান, লকডাউন চলাকালে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জরুরি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দোকান খোলা রাখা যাবে। সব গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। যশোর, খুলনাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে পুলিশি চেকপোস্ট থাকবে। সীমান্তে পারাপার বন্ধ থাকবে। শহরে থাকবেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভোমরা স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি চালু থাকলেও দোকানপাট বন্ধ থাকবে।

সভায় এ সময় ভার্চুয়ালি অংশ নেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আ ফ ম রুহুল হক, সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোস্তফা লুত্ফুল্লাহ, পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আল মাহমুদ, সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়েত, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু, প্রেস ক্লাব সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপী প্রমুখ।

নওগাঁ : সর্বাত্মক লকডাউনের প্রথম দিন গতকাল প্রশাসনের কঠোর নজরদারি লক্ষ করা গেছে। জেলা শহরে কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। তবে প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন ছোট ছোট রাস্তায় হেঁটে চলাচল করতে মানুষের ঢল দেখা গেছে। গতকাল সকালে পৌর বাজার এলাকায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা এবং ক্রেতাদের উপস্থিতি কম চোখে পড়ে। শহরের মুক্তির মোড়, বালুডাঙ্গা বাস টার্মিনাল, তাজের মোড়ে পুলিশি তল্লাশি দেখা গেছে। চোখে পড়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অপ্রয়োজনে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘোরাফেরার সময় জরিমানা করা হয়েছে। শহরে জরুরি পণ্য ছাড়া প্রায় সব দোকান বন্ধ থাকতে দেখা যায়। সকাল ১০টার দিকে শহরের পৌর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, অন্য দিনের তুলনায় বাজারে মানুষের উপস্থিতি খুব কম।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৬ ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করে ২৩ জনের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রয়েছেন ৩০৪ ব্যক্তি। এদিকে নিয়ামতপুর উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের তৎপরতাও লক্ষ করা গেছে।

গোপালগঞ্জ : সদর উপজেলার সাতপাড়, বৌলতলী ও সাহাপুর ইউনিয়নে লকডাউন আরো দুই দিন বাড়ানো হয়েছে। তবে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সাতপাড়া ইউনিয়নের তেলিভিটা গ্রামের লকডাউন চলমান রয়েছে। গত ২৭ মে এই তিনটি ইউনিয়নে লকডাউন ঘোষণা করে সদর উপজেলা প্রশাসন। গত বুধবার প্রথম দফার লকডাউন শেষ হয়। গতকাল ও আজ শুক্রবার এর মেয়াদ বাড়ানো হয়। গতকাল দুপুরে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ।

সিভিল সার্জন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত সাত দিনে গোপালগঞ্জে নতুন করে ৯০ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে।

ঝিনাইদহ : জেলা প্রশাসক মজিবুর রহমান গতকাল দুপুরে জানান, মহেশপুরের বাওলী গ্রামে সাত দিনের জন্য লকডাউন করা হয়েছে। এ ছাড়া সীমান্তবর্তী স্বরূপপুর, নেপা, কাজীরবেড়, শ্যামকুড়, বাঁশবাড়িয়া ও যাদবপুর ইউনিয়নে রাতে চলাচলে ১৫ দিনের জন্য বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ইউনিয়নগুলোয় সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত মানুষ চলাচল ও ব্যবসায়প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হতে পারবে না।

Advertisement