ইভ্যালি, আলেশা মার্ট, ধামাকা শপিং, ই-অরেঞ্জ, সিরাজগঞ্জ শপ, আলাদীনের প্রদীপ, কিউকুম, বুম বুম, আদিয়ান মার্ট ও নিডসের সঙ্গে বিকাশ-এর পেমেন্ট গেটওয়ে সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।

বিকাশের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিকাশ জানায়, গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষায় কয়েকটি মার্চেন্টের জন্য বিকাশ-এর পেমেন্ট গেটওয়ে সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।

Advertisement

ওই মার্চেন্টগুলোর মধ্যে ইভ্যালি ছাড়াও রয়েছে আলেশা মার্ট, ধামাকা শপিং, ই-অরেঞ্জ, সিরাজগঞ্জ শপ, আলাদীনের প্রদীপ, কিউকুম, বুম বুম, আদিয়ান মার্ট ও নিডস। রেগুলেটরি নীতিমালা অনুযায়ী পেমেন্ট ব্যবস্থা বাস্তবায়নের পর পুনরায় বিকাশ পেমেন্ট সেবা চালু করা হবে বলে জানিয়েছে বিকাশ।

গত মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেওয়া এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায় যে, ইভ্যালির মোট দায় ৪০৭.১৮ কোটি টাকা।

গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম ২১৩.৯৪ কোটি টাকা এবং মার্চেন্টদের নিকট হতে ১৮৯.৮৫ কোটি টাকার মালামাল বাকিতে গ্রহণের পর স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিষ্ঠানটির কাছে কমপক্ষে ৪০৩.৮০ কোটি টাকার চলতি সম্পদ থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ৬৫.১৭ কোটি টাকা।

গ্রাহকদের কাছ থেকে ২১৪ কোটি টাকা অগ্রিম গ্রহণ করে পণ্য ডেলিভারি না দেওয়া ও মার্চেন্টদের ১৯০ কোটি টাকা পাওনা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনকেও নির্দেশ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছে ইভ্যালির প্রকৃত দেনা আরো  বেশি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় গত মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে। এজন্যই বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দলকে কম্পানির ডাটাবেজে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি কম্পানিটির কর্তৃপক্ষ।

এরপর গত ৯ জুলাই ইভ্যালির বিরুদ্ধে ৩৩৮ কোটি টাকা জালিয়াতি বা আত্মসাতের তদন্ত চলমান থাকায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন এবং তাঁর স্বামী ও কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেলের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

একই কারণে গত শনিবার এই দম্পতির বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেন ঢাকার একটি আদালত। একইসঙ্গে গত ১৪ জুলাই কম্পানিটির গিফট ভাউচার গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নোটিশ জারি করে দেশের কয়েকটি ব্র্যান্ডশপ।
গত ১৫ জুলাই, গ্রাহক ও মার্চেন্টদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে ইভ্যালি ডট কমের সদস্যপদ স্থগিত করার উদ্যোগ নেয় ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)।

এর আগে পাঁচটি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির সঙ্গে তাদের সব ধরনের কার্ডভিত্তিক লেনদেন স্থগিত রাখার কথা গ্রাহকদের জানিয়েছে। তারা বলেছে, ইভ্যালিতে লেনদেন ঝুঁকিপূর্ণ, এই নির্দেশনার পর কেউ লেনদেন করলে তার জন্য ব্যাংক দায়ী থাকবে না।

Advertisement