আসন্ন জাতীয় সংসদের তিন আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি। ফলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেলেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া যাবে বলে ধরে নিয়েছেন দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। তাঁরা মরিয়া হয়ে মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখে চলেছেন তাঁরা। তিনটি আসনেই থানা, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাদের পাশাপাশি সহযোগী সংগঠনের নেতারাও প্রার্থী হতে চাইছেন। এর সঙ্গে মনোনয়ন দৌড়ে যুক্ত হয়েছেন প্রয়াত সংসদ সদস্যদের পরিবারের সদস্য এবং অনেক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরাও। ফলে এবার আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

গতকাল শুক্রবার ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ ও সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে এ ফরম বিক্রি চলছে। প্রথম দিনেই গতকাল তিন আসনে ২১টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। আগামী ১০ জুন পর্যন্ত ফরম বিক্রি হবে।

Advertisement

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মনোনয়ন ফরম বিতরণের প্রথম দিনে ঢাকা-১৪ আসনে ছয়টি, কুমিল্লা-৫ আসনে আটটি এবং সিলেট-৩ আসনে সাতটি ফরম বিক্রি হয়েছে। আগামী ১০ জুন পর্যন্ত আমরা ফরম বিতরণ ও জমা নেব।’

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানায়, ঢাকা-১৪ আসনে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ করেন এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তি আছে এমন একজন নেতাকে খোঁজা হচ্ছে। রাজধানীর অন্যতম প্রবেশপথ গাবতলী টার্মিনাল এই আসনের মধ্যে পড়ায় এ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন এমন বিবেচনাও মাথায় রাখা হচ্ছে।

আসনটিতে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা মনোনয়ন চাইছেন। এ ছাড়া ওই আসনের অন্তর্গত এবং আশপাশের থানা আওয়ামী

লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরাও মনোনয়নপ্রত্যাশী। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ব্যবসায়ীও এই আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহী। গতকাল এ আসনের জন্য ছয়জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান, দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল হক হ্যাপি।

সিলেট অফিস জানায়, সিলেট-৩ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা এরই মধ্যে মাঠে নেমে গেছেন।

গণসংযোগের পাশাপাশি মতবিনিময় এবং কর্মীদের নিয়ে শোডাউনও করছেন। এসব কর্মসূচিতে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। শত শত কর্মী-সমর্থক মুখে মাস্ক বা শারীরিক দূরত্ব বজায় না রেখেই শোডাউন করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই আসনটিতে আওয়ামী লীগের অন্তত ২৪ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী মাঠে আছেন। এর মধ্যে রয়েছেন প্রয়াত সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর স্ত্রী ফারজানা চৌধুরী, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইনাম আহমেদ চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, ডাকসুর সাবেক সদস্য দেওয়ান গৌস সুলতান, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নিজাম উদ্দিন ও কোষাধ্যক্ষ শমসের জামাল, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শাহ মুজিবুর রহমান জকন, বালাগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান মো. মোস্তাকুর রহমান মফুর, দক্ষিণ সুরমার উপজেলা চেয়ারম্যান আবু জাহিদ, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য আব্দুর রকিব মন্টু ও যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এনাম উল ইসলাম। সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীর নামও আলোচনায় রয়েছে। মনোনয়ন দৌড়ে আরো আছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল আলম রুহেল, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ সিলেট জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুর রহমান, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছিত টুটুল, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা সভাপতি সাইফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আ স ম মিসবাহ, যুক্তরাজ্য প্রবাসী মনির হোসাইন ও সাবেক ছাত্রনেতা আলহাজ সেলিম আহমদ।

বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নেমে পড়েছেন প্রচার-প্রচারণায়। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দের আগে আনুষ্ঠানিক প্রচারণার সুযোগ না থাকলেও এ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা গণসংযোগ আর শোডাউনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আসনটির দুটি উপজেলা (বুড়িচং এবং ব্রাহ্মণপাড়া) ভারত সীমান্তবর্তী হওয়ার পরও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপেক্ষিত হচ্ছে করোনা স্বাস্থ্যবিধি। মাস্ক ছাড়াই নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন শত শত মানুষ। সাড়ে তিন লাখের বেশি ভোটারের এই আসনে আগামী ১৪ জুলাই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

আসনটিতে মনোনয়ন দৌড়ে আছেন প্রয়াত সংসদ সদস্য আব্দুল মতিন খসরুর স্ত্রী সেলিনা সোবহান খসরু, ছেলে মুনেফ ওয়াসিফ, মেয়ে ডা. উম্মে হাবিবা দিলশাদ মুনমুন এবং ভাই অ্যাডভোকেট আবদুল মমিন ফেরদৌস। এ ছাড়া রয়েছেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাশেম, সহসভাপতি মো. আল আমিন, উপজেলা চেয়ারম্যান আখলাক হায়দার, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর খান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী, বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, অধ্যক্ষ মো. আলী চৌধুরী মানিক, মেজর জেনারেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান, আব্দুস সালাম বেগ, আওয়ামী লীগ নেতা শাহজালাল মজুমদার, তারিক হায়দার, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের আইন সম্পাদক সোহরাব খান চৌধুরী, বিএলএম গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ মতিন, আব্দুল জলিল, আবু জাহের, শাহজালাল মোল্লা, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো. মাহতাব, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোস্তফা কামাল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা অধ্যক্ষ সেলিম রেজা সৌরভ, যুবলীগ নেতা এহতেশামুল হাসান ভূঁইয়া রুমি এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার মো. নিজামুল ইসলাম।

Advertisement