নির্ধারিত নব্বই মিনিট শেষ হতে বাকি সাত মিনিট। তখনই কাতারের দোহায় নায়ক রূপে আবির্ভাব তপু বর্মণের। ডান প্রান্ত থেকে আব্দুল্লাহর ক্রসে বপের মধ্যে লাফিয়ে উঠে নেওয়া রিয়াদুল হাসান রাফির হেড প্রথমে বুক দিয়ে নামান তপু। 

চোখের পলকে ডান দিকে ঘুরে ডান পায়ের যে শট নেন বসুন্ধরা কিংসের এ ডিফেন্ডার, তা আফগান এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে চলে যায় জালে। বাংলাদেশের ফুটবলে কোনো ফুটবলারের পায়ে এমন গোল দেখে অবাক সবাই। শুধু অসাধারণ গোল করেই নয়, আফগানিস্তানের বিপক্ষে দলকে মূল্যবান এক পয়েন্ট এনে দিয়ে নায়কের আসনে তপু বর্মণ। 

Advertisement

বৃহস্পতিবার দোহার জসিম বিন হামাদ স্টেডিয়ামে ২০২২ বিশ্বকাপ ও ২০২৩ এশিয়ান কাপ বাছাপর্বের ম্যাচে আফগানিস্তানকে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছে বাংলাদেশ। বাছাইয়ে গ্রুপ ‘ই’-তে দ্বিতীয় পয়েন্ট পেল জেমি ডের দল। 

২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর কলকাতার সল্টলেকে ভারতের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে এক পয়েন্ট পেয়েছিলেন জামাল ভূঁইয়ারা। ওই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর তাজিকিস্তানের দুশানবে বাছাইয়ের প্রথম লেগে আফগানিস্তানের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। ছয় বছর পর আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করেছে লাল-সবুজের দলটি। ২০১৫ সালের ২ জুন প্রীতি ম্যাচটিও শেষ হয়েছিল ১-১ গোলে সমতায়।

শুরুতে গোল হজম না করার চ্যালেঞ্জে জয়। প্রথমার্ধে আফগানিস্তানের আক্রমণগুলো প্রতিহত করা বাংলাদেশ জাল অক্ষত রাখে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তালগোল পাকিয়ে ফেলা বাংলাদেশ হজম করে গোল। ৪৮ মিনিটে বক্সের ডান প্রান্ত দিয়ে ডিফেন্ডার নাজেমদ আহমেদের মাইনাসে বাঁ পায়ে নেওয়া আমির শরিফির নিখুঁত শটে বল চলে যায় জালে। 

ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েও তা ফেরাতে পারেননি জিকো। পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ কৌশল বদলে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। রক্ষণভাগ সামলে আক্রমণে উঠে আসেন তপু বর্মণ-রিয়াদুল হাসান রাফিরা। বহুল প্রত্যাশিত যে গোলটি করতে পারছিলেন না ফরোয়ার্ডরা, ডিফেন্ডার হয়ে ঐতিহাসিক সে গোলটিই করলেন তপু বর্মণ। দুই ডিফেন্ডারের রসায়নে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের গোলে অবদান রাকিব হোসেনের বদলি মাঠে নামা মিডফিল্ডার আব্দুল্লাহরও। মূলত দ্বিতীয়ার্ধে পাঁচ বদলির পরই বাংলাদেশের খেলায় ধার বাড়ে। 

কাতারের তীব্র গরমে খেলোয়াড় বদলিতে সুবিধা হয়েছে বাংলাদেশের। মাঠে নামা পাঁচ ফুটবলার- জুয়েল, মানিক মোল্লা, রিমন, মেহেদি এবং আব্দুল্লাহ তাদের সর্বস্ব উজাড় করে খেলেন। তারই ধারাবাহিকতায় আফগান সীমানায় একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে বাংলাদেশ। ৮০ মিনিটে তো গোলটি প্রায় পরিশোধই করে ফেলছিল জেমির দল। জামাল ভূঁইয়ার উড়ন্ত ক্রসে ডান প্রান্তে বল পান বদলি মিডফিল্ডার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। তার সামনে ছিলেন শুধুই গোলরক্ষক। কিন্তু ডান পায়ে নেওয়া আব্দুল্লাহর শট আফগান গোলরক্ষকের পায়ে লেগে প্রতিহত হলে সমতা ফেরা হয়নি বাংলাদেশের। তিন মিনিট পর তেমনই এক ক্রস থেকে গোল পায় বাংলাদেশ। যে গোলটি বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য নতুন দিগন্তের সূচনাই বলা চলে। তাই তো ম্যাচ শেষে জামাল ভূঁইয়াদের মধ্যমণি হয়ে ওঠেন গোলদাতা তপু। আর দোহায় খেলা দেখতে আসা প্রবাসী বাংলাদেশিরাও শেষ মুহূর্তে হাসি নিয়ে ফিরতে পেরেছেন।

Advertisement