আমরা যারা বিদেশ যেতে চাই তাদের সকলেরই একটি পাসপোর্ট এর প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন কারণে আমরা বিদেশে থাকি যেমন কাজের উদ্দেশ্যে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বা অন্য যেকোনো কারণে বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন হলে পাসপোর্ট এর দরকার হয়। এছাড়া বিদেশে টাকা পাঠানোর জন্য ভিসা কার্ড বা মাস্টার কার্ড করার জন্য একটি পাসপোর্ট এর দরকার হয়। এই পাসপোর্ট এর জন্য আমরা অনলাইনে ঘরে বসে খুব সহজে আবেদন করতে পারি।

যেভাবে অনলাইনে পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে হয়-

অনলাইনে পাসপোর্ট করার জন্য একটি ওয়েবসাইটে ঢুকতে হবে। ওয়েবসাইটের নাম হল ই epassport.gov.bd। এখান থেকে Apply Online for e‑Passport / Re‑Issue বাটনে ক্লিক করতে হবে। প্রথমে আপনি বাংলাদেশ থেকে এপ্লাই করছেন সেটার জন্য yes দিতে হবে। এরপর আপনার ডিস্ট্রিকের নাম দিতে হবে। এরপর থানা দিতে হবে।  এরপর কন্টিনিউ বাটনে ক্লিক করতে হবে। এবার আপনার ইমেইল এড্রেস দিয়ে হিউম্যান ভেরিফিকেশন ক্লিক করে continue বাটনে এ ক্লিক করতে হবে।

এবার আপনাকে একটি পাসওয়ার্ড দিতে বলা হবে। যেটি আপনার একাউন্টের পাসওয়ার্ড এ পাসওয়ার্ডটি দুইবার দিয়ে দিতে হবে। এবার আপনি আপনার নামটি দিবেন। এ নামটি অবশ্যই আপনার ভোটার আইডি কার্ড বা জন্ম নিবন্ধনই কার্ডের সাথে মিলে যায়। এবার আপনি আপনার মোবাইল নাম্বারটি দিয়ে ক্যাপচা পূরণ করে continue বাটনে ক্লিক করতে হবে।

ইমেইল অ্যাড্রেস ভেরিফিকেশন

এবার আপনার ইমেইল এড্রেসটি ভেরিফিকেশন করতে হবে। ভেরিফিকেশন এর জন্য আপনি যে ইমেইল এড্রেস দিয়েছেন। সেই ইমেইল এড্রেসের ইনবক্সে চলে যাবেন। ইনবক্স থেকে আপনি একটি মেসেজ পাবেন। এই ম্যাসেজে দেওয়া লিংকে ক্লিক করলে ভেরিভাই হয়ে যাবে।

এবার আপনি আপনার ইমেল অ্যাড্রেস ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করবেন। এবার এখান থেকে এটি ফর্ম ফিলাপ করতে হবে। প্রথমে পাসপোর্ট টাইপ দিয়ে দিতে হবে। এরপর সেভ এন্ড কন্টিনিউ বাটনে ক্লিক করতে হবে। এবার আপনাকে আপনার পার্সোনাল ইনফরমেশন দিতে হবে। এখানে আপনি নিজেই আপনার জন্য পাসপোর্ট করছেন কিনা সেটি সেট করতে হবে। এরপর আপনার জেন্ডার সেট করতে হবে। এবার নিচ থেকে আপনার পেশা, আপনার ধর্ম তারপর আপনার মোবাইল নাম্বারটা দিতে হবে। এবং জন্ম তারিখ দিতে হবে। এবার সেভ এন্ড কন্টিনিউ বাটনে ক্লিক করতে হবে।

এরপর এড্রেসে পার্মানেন্ট অ্যাড্রেস এবং প্রেজেন্ট এড্রেসটি দিতে হবে।  দুই এড্রেস একই হলে সব থেকে ভালো হয়। এবার নিচ থেকে রিজিওনাল পাসপোর্ট অফিস এ বাটনে ক্লিক করে সেভ এন্ড কন্টিনিউ বাটনে ক্লিক করতে হবে।

এবার আইডি ডকুমেন্ট অপশন থেকে আপনার সকল তথ্য গুলো দিতে হবে। আপনার যদি আগে কোন পাসপোর্ট থেকে থাকে অথবা আপনি যদি এই বার নতুন পাসপোর্ট করতে চান সেই অপশনগুলো এখানে পাওয়া যাবে। সেখান থেকে আপনি সেট করে দিবেন এছাড়া আপনার অন্য কোন দেশে পাসপোর্ট ছিল কিনা সেগুলো সেট করে সেভ এন্ড কন্টিনিউ বাটনে ক্লিক করতে হবে।

অন্যান্য তথ্য

এরপর আপনার পিতামাতার তথ্য দিতে হবে। এখানে আপনার পিতার বা আপনার বাবার ভোটার আইডি কার্ডের নাম্বার, জাতীয়তা এগুলো দিতে হবে। এছাড়া তাঁর পেশা দিয়ে দিতে হবে। একইভাবে মায়ের তথ্য দিতে হবে। সেখানে মায়ের আইডি কার্ডের জাতীয়তা নাম্বার ও প্রপেশন দিয়ে দিতে হবে। এবার সেভ এন্ড কন্টিনিউ বাটনে ক্লিক করতে হবে।

এবার আপনার তথ্য দিতে হবে। এখানে আপনার স্বামী বা স্ত্রীর তথ্য দিতে হবে। আর আপনি যদি সিঙ্গেল হয়ে থাকেন তাহলে সিঙ্গেল দিবেন আর আপনি যদি ডিভোর্সী হয়ে থাকেন তাহলে ডিভোর্স দিবেন। তারপর সেভ এন্ড কন্টিনিউ বাটনে ক্লিক করতে হবে।

এবার আপনার ইমারজেন্সি কন্টাক্ট নাম্বার দিতে হবে। ইমারজেন্সি কন্টাক্ট এর জন্য আপনার যেকোনো একটি রিলেটিভ সেট করে তারপর তার নাম ভোটার আইডি কার্ড এবং কন্টাক্ট নাম্বার দিয়ে সেভ এন্ড কন্টিনিউ বাটনে ক্লিক করতে হবে। এবার পাসপোর্ট অপশন থেকে পাসপোর্ট এর পেজ ভ্যালিডিটি সেট করে দিতে হবে। এবার সেভ এন্ড কন্টিনিউ বাটনে ক্লিক করতে হবে।

এবার আপনাদেরকে ডেলিভারি অপশনে যেতে হবে।সেখান থেকে আপনারা দুটি অপশন পাবেন। একটি রেগুলার ডেলিভারি। আপরটি এক্সপ্রেস ডেলিভারি।  রেগুলার ডেলিভারির ক্ষেত্রে কিছুটা খরচ কম হয়। আর এক্সপ্রেস ডেলিভারি করতে খরচ কিছুটা বেশি হয়। আপনি যদি জেলা বা বিভাগ থেকে পাসপোর্টটি করে থাকেন। তাহলে সেক্ষেত্রে আপনার আর কিছু করার দরকার নেই সেভ এন্ড কন্টিনিউ বাটনে ক্লিক করতে হবে। আর আপনি যদি থানা লেভেলে পাসপোর্টটি করেন তাহলে সে ক্ষেত্রে সিডিউল ডেট দিয়ে সেভ এন্ড কন্টিনিউ বাটনে ক্লিক করতে হবে।

সকল তথ্য যেভাবে দেখাবে

এবার সকল তথ্য একটি লিস্ট আকারে দেখাবে। সেখান থেকে আপনি সকল তথ্য ভালো করে চেক করে নিতে পারবেন। এবার পেমেন্ট বাটনে ক্লিক করে এখানে দেওয়া ব্যাংক অনুযায়ী ব্যাংকে যেয়ে আপনার পাসপোর্ট এর পেমেন্টটি করে দিতে পারবেন। এজন্য আপনার এই সকল তথ্য প্রিন্টার মেশিনে নিয়ে প্রিন্ট করে নিতে হবে।  এই প্রিন্ট কপি নিয়ে আপনারা ব্যাংকে যেয়ে টাকা পেমেন্ট করতে পারবেন। এরপর ব্যাংক থেকে আপনাকে একটি চালান কপি দেয়া হবে। সেটি আবেদনপত্রের সাথে যুক্ত করে পাসপোর্ট অফিস দিতে হয়।

এবার পাসপোর্ট এর জন্য আপনার বায়োমেট্রিক, ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং চোখের রেটিনার প্রিন্ট দিয়ে দিতে হবে। এবার কিছুদিন পর পুলিশ ভেরিফিকেশন থেকে আপনার নাম্বার একটি ফোন আসবে। সেখানে একজন পুলিশ কর্মকর্তা আপনাকে যাচাই বাছাই করবে। আপনাকে পুলিশের সাথে দেখা করার সময় আপনার যাবতীয় সকল তথ্য নিয়ে যেতে হবে। আপনার ভোটার আইডি কার্ড, আপনার বাবা-মার ভোটার আইডি কার্ড, আপনার অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম এর কপি, চালান কপি এসবই একসাথে অ্যাটাচ করে পুলিশের কাছে যেতে হবে। এবার ২৮ দিনের মধ্যে আপনার পাসপোর্টটি চলে আসবে। এবার ২৮ দিন পর আপনার নাম্বারে ফোন আসবে যে পাসপোর্ট রেডি হয়ে গেছে। আপনি এখানে নিয়ে যান।  তারপর আপনি আপনার ডেলিভারি স্লিপ দিয়ে পাসপোর্টটি সংগ্রহ করে নিবেন।