ট্রেনের টিকিট কাটতে সব থেকে বেশি ঝামেলার শিকার হতে হয়। কারণ ট্রেনের টিকেট কাটতে অনেক বেশি সময় ধরে লাইন ধরতে হয়। আর স্টেশনে পর্যাপ্ত পরিমাণ টিকিট কাউন্টার এর অভাবে এবং অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে ট্রেনের টিকিট রেলস্টেশন থেকে কাটা অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়ে। যার ফলে বাংলাদেশ রেলওয়ে অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার ব্যবস্থা করে দিয়েছে এবং আপনি চাইলে খুব সহজে ঘরে বসেই বাংলাদেশ এর যেকোন জেলা থেকে আরেক জায়গায় খুব সহজেই ই-টিকিটের মাধ্যমে টিকিট কেটে ট্রেনে ভ্রমন করতে পারবেন।

যেভাবে অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটতে হয়

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এটি বাংলাদেশের রেলওয়ের সরকারি ওয়েবসাইট। এখান থেকে আপনি যে কোন রেলস্টেশন থেকে আরেক রেল স্টেশনের টিকেট অনলাইনে কাটতে পারবেন। এর জন্য সর্বপ্রথম আপনাকে Register বাটনে ক্লিক করতে হবে। রেজিস্টার বাটনে ক্লিক করে আপনার নাম ইমেইল এড্রেস মোবাইল নাম্বার পাসওয়ার্ড পোস্ট কোড এবং এড্রেস দিতে হবে। এছাড়া আপনার ভোটার আইডি কার্ডের নাম্বারটিও এখানে দিতে হবে। সব তথ্য দেয়া হয়ে গেলে আপনার মোবাইল নাম্বার একটি ওটিপি আসবে সেই কোডটি এখানে দিয়ে দিতে হবে। করতে অবশ্যই তিন মিনিটের মধ্যে দিতে হবে তাহলে আপনি সঠিকভাবে রেজিস্টার করে ফেলতে পারবেন। পরবর্তীতে আপনার ইমেল এড্রেস ও পাসওয়ার্ডটি এবং মোবাইল নাম্বার দিয়ে আপনি লগইন করতে পারবেন।

এবার ফ্রম অপশন থেকে আপনি যে জায়গা থেকে টিকিটটি কাটতে যাচ্ছেন। সেই রেলওয়ে স্টেশনের নাম লিখতে হবে। যেমন আপনি যদি রাজশাহী থেকে ঢাকাতে যেতে চান। তাহলে রাজশাহী নাম লিখবেন ফর্মে এবং লিখতে হবে। ঢাকা আপনি যে তারিখে ঢাকাতে যেতে চান। সেই তারিখে তারিখটি দিতে হবে।  আপনি যেই ক্লাসে যেতে চান। সেই ক্লাস থেকে সেট করতে হবে।  এখানে বিভিন্ন ক্লাস আছে। যেমন- Shovan, ac_b, ac_s, Shulov ইত্যাদি। এরপর search বাটনে ক্লিক করতে হবে।

এখান থেকে রাজশাহী থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য যে ট্রেনগুলো আছে এবং সেটাতে কয়টি সিট আছে তা দেখাবে। আপনি যে ট্রেনটিতে যেতে চান সেই ট্রেনে ক্লিক করতে হবে। এবার বুক নাও বাটনে ক্লিক করতে হবে। আপনি যে কামরায় উঠতে চান সেটা এখানে সেট করে দিতে হবে। যেমন- চ ছ জ এরকম যে উঠতে চান সেই কামড়া এখানে সেট করতে হবে। সেট করার পর আপনি যে সিটগুলো নিতে চান সেই সিটের উপরে টিক দিয়ে দিতে হবে। সেগুলো সবুজ রঙের হলেই বুঝতে হবে। আপনি সঠিকভাবে দুইটি বা তিনটি সিট বুকিং করেছেন। 

ডান পাশে আপনার সকল টাকার তথ্য দেখাবে।আপনার কত বিল এসেছে সেটা দেখাবেন এবার কন্টিনিউ পার্সেস বাটনে ক্লিক করতে হবে। এই বাটনে ক্লিক করার পর আপনার ইনফরমেশন দেখাবে।  আপনাকে অবশ্যই প্যাসেঞ্জার টাইপ সেট করতে হবে।  এবার নিচ থেকে নগদ বিকাশ, রকেট বা ডেবিট কার্ড যে কোন একটির মাধ্যমে টাকা পে করা যাবে। বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে আপনার কিছু সার্ভিস চার্জ কর্তন করা হবে। প্রসিড পেমেন্ট বাটনে ক্লিক করলে বিকাশের পেজ আসবে এবং সেখান থেকে আপনারা বিকাশের মাধ্যমে টাকাটা দিয়ে দিতে পারবেন। এরপর আপনাদের মোবাইলে একটি মেসেজ আসবে। এবার আপনি আপনার টিকিটটি সহজেই প্রিন্ট টিকেট নাও এই বাটনে ক্লিক করে পিডিএফ ফাইলটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। আর আপনি আপনার টিকিটটি ভেরিফাই করার জন্য ভেরিফাই বাটনে ক্লিক করে আপনার মোবাইল নাম্বার এবং টিকিট নাম্বারটি দিয়ে আপনি দেখে নিতে পারবেন।

এরপর আপনার জিমেইলে একটি পিডিএফ পাবেন। সেই কপিটি আপনি প্রিন্ট করে নিতে পারবেন অথবা সেটি মোবাইলে নিয়ে রেল স্টেশনের কাউন্টারে যেয়ে আপনার সেই পিডিএফ ফাইলটি দেখিয়ে আপনি আপনার টিকিটটি সংগ্রহ করে নিতে পারবেন। এভাবেই খুব সহজেই আপনি অনলাইনের মাধ্যমে ট্রেনের টিকিট কেটে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে পারবেন।

আপনি চাইলে ওয়েবসাইট ছাড়াও মোবাইলের অ্যাপস দিয়েও ট্রেনের টিকিট কাটতে পারবেন। সেক্ষেত্রে রেল সেবা এই অ্যাপটি প্লে স্টোর থেকে ইন্সটল করে নিতে হবে। এবার এখানে আপনি যদি আগে থেকে রেজিস্ট্রেশন করে থাকেন তাহলে আপনার মোবাইল নাম্বার এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে নিবেন। আর যদি রেজিস্ট্রেশন করা না থাকে তাহলে সে ক্ষেত্রে রেজিস্টার বাটনে ক্লিক করে ওয়েবসাইটের দেখানোর তথ্য অনুযায়ী এখানে রেজিস্ট্রি করে নিতে হবে এবং আপনার মোবাইল নাম্বার ও পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করে নিতে হবে। এবার সবকিছু অপশন ওয়েবসাইটের মত দেখানো অনুযায়ী আপনাকে ফরম টু সিলেক্ট করতে হবে। আপনার কয়টি টিকিট লাগবে কি আপনি যেতে চান এগুলো সব সেট করে দিয়ে আগের মতই বিকাশ বা নগদ রকেট এর মাধ্যমে পেমেন্ট করে আপনি আপনার প্রিন্ট কপিটি পাবেন এবং কপিটি টিকিট কাউন্টার দেখিয়ে টিকিট সংগ্রহ করে নিতে পারবেন।