অনেকেরই অনেক কম বয়সেই চুল পেকে যায়। সাধারনত ৪০-৪৫ বছরের বেশি বয়স হলে চুল পাকা শুরু করে। কিন্তু এর আগেই যদি চুল পাকতে শুরু করে তবে বুঝতে হবে তার চুল পাকা সমস্যা হয়েছে। নানা কারণে চুল পাকা সমস্যা হতে পারে। আর এই সমস্যা ছেলে মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই হতে পারে। কি কি কারণ অকালে চুল পেকে যায়, দেখে নিনঃ

Advertisement

সবথেকে যে কারণে চুল পেকে যায় তা হল বংশগত কারণ। আর এইভাবে সাধারণত ২০ বছর বয়স থেকেই চুল পাকা শুরু করে। এছাড়া মেলানিনের ঘাটতির জন্য চুল সাদা হওয়া শুরু হয়। পর্যাপ্ত পুষ্টি ও প্রোটিনের অভাবে মেলালিনের ঘাটতি হতে পারে। আবার হরমোনাল ইম্ব্যালেন্সের ফলেও চুল সাদা হওয়া শুরু হয়।

শুধু তাই নয় বিভিন্ন ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতি, অতিরিক্ত চাপ, ক্ষতিকর সাবান ও শ্যাম্পু চুলে প্রয়োগের ফলে,অতিরিক্ত ধুমপান, চুলের ফলিকলে অতিরিক্ত হাইড্রোজেন পার অক্সাইড উৎপাদনের ফলে চুলের রং অকালে সাদা হয়ে যায়। এই পাকা চুল প্রাকৃতিকভাবে কালো করা সম্ভব। দেখে প্রাকৃতিকভাবে চুল কালো করার কিছু পদ্ধতিঃ

ব্ল্যাক টিঃ

ব্ল্যাক টিতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যেটা চুলকে ড্যামেজ হওয়া রোধ করে ও চুলকে সাদা হওয়া থেকে প্রতিহত করে। এছাড়া এটি মানুষের অতিরিক্ত চাপ থেকেও মুক্তি দেয়, আর অতিরিক্ত চাপ চুল সাদা হওয়ার জন্য দায়ী। এরজন্য ২ চামচ ব্ল্যাক টি এর সাথে ১ কাপ পানি নিতে হবে। এরপর এই পানি ভালকরে সেদ্ধ করে নিতে হবে। এরপর এই পানিকে ঠান্ডা করে মাথার চুল ও স্ক্যাল্পে প্রয়োগ করতে হবে। ভাল করে ১ মিনিট ধরে পুরো মাথা ম্যাসাজ করে ৩০ মিনিট পর সালফেট ফ্রী শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার দিয়ে চুল ধুয়ে নিতে হবে। এভাবে সপ্তাহে ২-৩ দিন করতে থাকলে ধীরে ধীরে চুল পাকা রোধ হতে থাকবে ও চুল কালো হতে থাকবে।

লেবু ও নারিকেল তেলঃ

লেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা চুলের ড্যামেজ হওয়া থেকে বাচায়। আর চুলকে করে তোলে কালো ও ঝলমলে। আর খাটি নারিকেল তেল চুলের পুষ্টি যোগায় ও চুলকে মজবুত করে।
একটি পাত্রে ২ চামচ নারিকেল তেল ও ২ চামচ লেবুর রস নিয়ে ভাল করে মিশিয়ে হালকা গরম করে নিতে হবে। এরপর এটি মাথার স্ক্যাল্পে প্রয়োগ করে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এরপর সালফেট ফ্রী শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার দিয়ে চুল ধুয়ে নিতে হবে। এটি সপ্তাহে ১ দিন করা যেতে পারে।

ক্যাস্টর অয়েল ও নারিকেল তেলঃ

ক্যাস্টর মাথার চুলের ফলিকলের মধ্যে ব্লাড সার্কুলেশন ঠিক রাখে। আর এই তেলে উপকারি ওমেগা ৬ ফ্যাটি এসিড রয়েছে, যা চুলকে কালো করতে সাহায্য করে। ১ চামচ ক্যাস্টর অয়েল ও ২ চামচ নারিকেল তেল নিয়ে খুব ভালভাবে মিশিয়ে হালকা গরম করে নিতে হবে। এরপর এই মিশ্রনটি ভাল করে মাথার চুলে, বিশেষ করে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করতে হবে। এই ম্যাসাজটি ১৫ মিনিট ধরে করতে হবে। ৩০ মিনিট পর সালফেট ফ্রী শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার দিয়ে চুল ধুয়ে নিতে হবে। এটি সপ্তাহে ২-৩ বার করা যেতে পারে। এই পদ্ধতিতে চুল খুব দ্রুতই কালো হয়ে যাবে।

পেয়াজের রস ও অলিভ ওয়েলঃ

পেয়াজের রস চুল পরা রোধ করার পাশাপাশি হাইডোজেন পার অক্সাইড বৃদ্ধি করে চুলে পাকা রংকে খুব তাড়াতাড়ি কালো করে ফেলে। আর অলিভ ওয়েলও চুলকে মজবুত করে। একটি পেয়াজকে ছোট ছোট করে কেটে এর সাথে ১ চামচ অলিভ ওয়েল মিশিয়ে ভাল করে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। এরপর সেইখান থেকে একটি পাতলা কাপড়ের সাহায্য এর থকে রস বের করে নিতে হবে। সেই রস মাথার স্ক্যাল্পে ১০ মিনিট ধরে ম্যাসাজ করতে হবে। ৩০ মিনিট এভাবে এগুলো মাথায় নিয়ে বসে থাকতে হবে। এপরপ শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার দিয়ে চুল ভালভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে শ্যাম্পুটি যেন সালফেট ফ্রী হয়। এভাবে সপ্তাহে ২ দিন করতে হবে।

হেনা ও কফিঃ

১ কাপ পানিতে ৫ চামচ হেনা পাউডার ও ১ চামচ কফি নিয়ে ভালকরে মিশিয়ে এই মিশ্রনটি ৩-৪ ঘন্টা রেখে দিতে হবে। এরপর নিয়মমত শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে ৩ সপ্তাহ পর পর করা যেতে পারে। হেনার দেওয়ার ফলে সাদা চুলগুলো তৎক্ষণাৎ লালচে রং এর হয়ে যাবে। আর কফি সেই লালচে চুলকে কালোতে পরিণত করবে।

আমলা, জবা ফুল, তিলের তেলঃ

তিলের তেল মেলালিনের উপস্থিতি বাড়ায়। যেটা চুল কালো করতে সাহায্য করে। জবা ফুলের রস চুল সাদা হওয়া থেকে রক্ষা করে। এছাড়া আমলা চুলের বৃদ্ধির জন্য খুবই উপকারি। ৩ চামচ জবার পাতা ও ফুলের কুচি নিয়ে এর সাথে ৩ চামচ আমলা পাউডার নিয়ে ভালভাবে ব্লেন্ড করে নিতে হবে এর সাথে ২ চামচ তিলের তেল ও নারিকেল তেল মিশিয়ে এই মিশ্রণটি মাথার স্ক্যাল্পে মেখে ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করে সালফেট বিহিন শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে।

যে সকল বিষয় খেয়াল রাখতে হবেঃ

১> ভিটামিন বি৫ ও বি১২ সম্মৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। এই খাবারগুলি পাকা চুলকে কালো করতে সাহয্য করে থাকে।

২> সবসময় থাইরয়েড লেভেল ঠিক রাখতে হবে। চুল পাকার জন্য ডাক্তারের কাছে গেলে থাইরয়েড লেভেল ঠিক আছে কিনা তা পরীক্ষা করে নিতে হবে ও সেই অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে ও থাইরয়েড
নিয়ন্ত্রণে রাখার সকল নিয়ইম মেনে চলতে হবে।

৩> ধুমপান করার অভ্যাস থাকলে তা ত্যাগ করতে হবে।

৪> সূর্যের অতিবেগুনী রস্মী থেকে চুলকে রক্ষা করতে হবে। সূর্যে বের হলে ছাতা অথবা টুপি পরিধান করতে হবে।

৫> স্ট্রবেরী, কলিজা, গাজর, কারিপাতা, পালং শাক, ডিম, বিচি, সূর্মুখী বীজ, আখরোট এই খবারগুলি নিয়মিত খেলে সাদা চুল্গুলো কালো হতে সাহায্য করবে।

Advertisement